





এ.কে. এম মুশতাক আলী ইনসিডিন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মীকে আমরা স্মরণ করি – – – –
এ.কে.এম. মুশতাক আলী গত ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুন তারিখ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
নব্বই’এর গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলোনের অগ্রপথিক, নাট্য ও চলচিত্র আন্দোলনের সাথে নিবিড় সর্ম্পক ও উন্নয়ন গবেষক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও – তার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তিনি ইনসিডিন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ইনসিডিন বাংলাদেশের পরিসরে তিনি কাজ করেছেন প্রাস্তিক মানুষের সাথে এবং একই সাথে রাষ্ট্র গঠণ প্রক্রিয়ায়। বিশেষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেলের সাথে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রকে সমন্বিত করে- রাষ্ট্রিয় নীতি, আইন, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইনসিডিন বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের মতামত গঠণে তিনি ছিলেন নিরলস। ইনসিডিনের দৃষ্টিতে প্রান্তিক মানুষের তালিকার সর্বাগ্রে স্থান পেয়েছে পথ শিশুরা – আর এ ক্ষেত্রেই মুশতাক আলীর ছিল প্রধান ভূমিকা। এছাড়াও আছে যৌন শোষণের শিকার শিশু, শিশু শ্রমে নিযুক্ত শিশু, আদিবাসী মানুষ, নারী শ্রমিক, কৃষিজীবি মানুষ ও পাচারের শিকার মানুষ- যাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে ইনসিডিনে কেটেছে তার কর্মময় সময়। ইনিসিডিনের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পথচলার প্রতিটি বাঁকেই এ.কে.এম. মুশতাক আলীর আছে সরব উপস্থিতি। মা – বেগম মাকসুদা’র শিক্ষকতা সূত্রে, মুশতাক, তার ভাই ও বোন বেড়ে উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আঙ্গিনায়। উদয়ন বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রসাশন বিভাগ হতে স্নাতোকত্তর সনদ অর্জন করেন মুশতাক। পরবর্তীতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে, হামফ্রি হিউবার্ট ফেলোশিপের আওতায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের উপর উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে স্নাতোকত্তর শিক্ষা শেষেই তার জীবনের সাথে জড়িয়ে যায় ইনসিডিন বাংলাদেশ।
ইনসিডিনের কর্ম পরিসরে; পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিবেশ গত বিপর্যয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠির সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক উষ্ণতার সাথে খাপ খাওয়ানোর নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন এবং দেশের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানের বিস্তারে এ.কে.এম. মুশতাক আলী ছিলেন সদা তৎপর। এ উদ্দেশ্যে তিনি যোগ দেন ডেনমার্কের কোপেন হেগেনে অনুষ্ঠিত কপ-১৫ বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে। পাশাপাশি, বিশ্বায়ন ও বিশ্ব বাণিজ্য উদারিকরণ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক-কৃষক সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অধিকার সুরক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সোচ্চার এবং প্রসংশনীয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি যুক্ত ছিলেন ‘উন্মেষ চলচিত্র সংসদ’এর মাধ্যমে চলচিত্র সংসদ আন্দোলনের সাথে। বাউল গান ও বাউল দর্শনের প্রতি মুশতাকের ছিল গভীর জানাশোনা ও অমোঘ আকর্ষণ। এ কারণেই তার ও তার জীবন সঙ্গী শিলা তাসলিম হক’ এর পুত্র শায়ান শারার আলী’কে মুশতাক গড়ে তুলতে চেয়েছেন স্বাধীন ও সংবেদনশীল ব্যক্তিত্বে। তার পারিবারিক জীবনের দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত জীবনের দক্ষতার পাশাপাশি; প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনবোধ- মুশতাক আলীকে দিয়েছে মানুষ হিসেবে পূর্ণতা।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ.কে.এম. মুশতাক আলী বাংলাদেশের পথশিশু, যৌন শোষণ, নিপীড়ণ ও পাচারের শিকার শিশু এবং পরিবেশ বিপর্যয়ে ঠিকানা হারানো শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধি-ব্যবস্থা প্রণয়নের পরিকল্পনায় ছিলেন আত্ননিবেদিত।